
জারিন তাসনিম রিয়া, শিল্পী নাম Amorist Zarin — একজন বাংলাদেশি প্লেব্যাক শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার, যাঁর কণ্ঠ একসাথে বহন করে রবীন্দ্রসঙ্গীতের গভীরতা, নজরুলের ঝংকার ও বিষাদ, এবং আধুনিক বাংলা গানের সমসাময়িক প্রকাশভঙ্গি। বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে তাঁর যাত্রা শুরু হয় চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক দিয়ে, যা পরে তাঁকে নিয়ে যায় প্রতিযোগিতার মঞ্চে চ্যাম্পিয়নের আসনে।
জারিনের সংগীতশিক্ষা শুরু হয় গুরু মাসুদ করিম স্যারের কাছে প্রাতিষ্ঠানিক তালিমের মধ্য দিয়ে। ছোটবেলা থেকেই স্কুল, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেন তিনি — স্কুলজীবনে নজরুলসঙ্গীতে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন তাঁর উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর একটি। জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে সাধারণ কণ্ঠ সংগীত ও উচ্চাঙ্গসংগীত বিষয়ে ৪ (চার) বছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রথম স্থান অধিকার করেন, এবং বাংলা খেয়াল, ধ্রুপদ, সাদরা ও দাদ্রা ধারায় সনদপ্রাপ্ত। পরবর্তীতে World Vision Bangladesh-এর Child Forum-এর মাধ্যমে তালিম গ্রহণ করেন, এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগীতে স্নাতক (Bachelor's) সম্পন্ন করেন।
তাঁর কণ্ঠ বিস্তৃত রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি, শাস্ত্রীয় সংগীত, গজল, আধুনিক বাংলা এবং R&B/ইনডি ধারা জুড়ে — একই শিল্পীর মধ্যে এই বৈচিত্র্য বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে তুলনামূলক বিরল।
হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের মধ্যে খেয়াল ও ঠুমরি-র প্রতি তাঁর গভীর ভক্তি ও আবেগের জায়গা। ধ্রুপদের তুলনায় খেয়াল বেশি স্বাধীনতা দেয় এবং ভাবপূর্ণ — এই কারণেই এটি তাঁর প্রিয়। আর ঠুমরি পছন্দের কারণ, এখানে রাগ ধরে রাখার চেয়ে আবেগ ও শৃঙ্গার বা প্রেমের প্রকাশই মুখ্য হয়ে ওঠে। জারিন নিজে বরাবরই ভালোবাসার পূজারি — আর এই কারণেই নিজেকে Amorist Zarin পরিচয়ে পরিচিত করাতেই তিনি সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।
শাস্ত্রীয় সংগীতের শুদ্ধ ও বিকৃত স্বর, আকার সাধনা, অলঙ্কার বা পাল্টা, ১০টি থাট, বন্দিশ বা সারগম গীত, তান ও পাল্টা, এবং তালের মধ্যে মূলত ত্রিতাল (১৬ মাত্রা), দাদরা (৬ মাত্রা), কাহারবা (৮ মাত্রা) ও একতাল (১২ মাত্রা) — এই সবকিছুতে জারিনের হাতেখড়ি ওস্তাদ আবীর দেবনাথ-এর কাছে, যাঁর কাছে এখনও তালিম চলছে।
গান শুনুন২০২২ সালে শাকিব খান ও পূজা চেরী অভিনীত, এস এ হক অলীক পরিচালিত চলচ্চিত্র "গলুই"-এ হাবিব ওয়াহিদের সুর ও সংগীত পরিচালনায় জারিনের প্লেব্যাক অভিষেক হয়। বাংলাদেশের মূলধারার চলচ্চিত্রে এই অভিষেক জারিনের সংগীতজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক, কারণ এটি তাঁকে একজন প্রতিষ্ঠিত প্লেব্যাক কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।
"গলুই" ছবিতে তিনি গেয়েছেন দুটি গান, এবং এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার Meril Prothom Alo Award-এও তাঁর নাম উঠে আসে।
এরপর, ২০২৩ সালে Channel i Shera Kontho (সিজন ৭)-এ বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হন জারিন, দেশের অন্যতম বড় সংগীত প্রতিযোগিতায় বহু প্রতিযোগীর মধ্য থেকে। এই জয় তাঁকে এনে দেয় জাতীয় পরিচিতি, এবং প্রমাণ করে তাঁর কণ্ঠের বহুমুখী সামর্থ্য — একই মঞ্চে ভিন্ন ভিন্ন ধারার গান পরিবেশন করার ক্ষমতা।
সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রথম সারির অডিও লেবেলগুলোর অধীনে এক দিনে ১২টি গান রেকর্ডিং করে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন জারিন। সাংবাদিকদের মতে, এর আগে এই কীর্তি সর্বশেষ করেছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন।
প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক — প্রতিটি ধাপেই জারিন নিজের কণ্ঠকে নিয়ে গেছেন ভিন্ন ভিন্ন ধারায়। রবীন্দ্রসঙ্গীতের ধ্রুপদী সুর থেকে শুরু করে আধুনিক প্রোডাকশনের গান পর্যন্ত, এই বৈচিত্র্যই তাঁর কণ্ঠশৈলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

আহমেদ শাকিল হাশমী স্যারের কাছে তালিম; স্বরলিপি অনুযায়ী সুরের বিশুদ্ধতা রক্ষার শিক্ষা

সবচেয়ে প্রিয় ধারা; রাগাশ্রিত নজরুলের তালিম ড. রশিদুন্নবী স্যার, দেবাশীষ বেপারী স্যার ও মাসুদ করিম স্যারের কাছে

শাস্ত্রীয় সংগীতের ভিত্তি এবং গজলের আবেগঘন কাব্যিকতা। স্বর, আকার সাধনা, অলঙ্কার, ১০টি থাট, বন্দিশ, তান; ত্রিতাল, দাদরা, কাহারবা ও একতাল — এই সবকিছুতে হাতেখড়ি ওস্তাদ আবীর দেবনাথের কাছে

সমসাময়িক প্রোডাকশন ও আধুনিক বাংলা গানের ধারায় সাবলীল উপস্থিতি। Golden Era Classics, Bangla Band & Rock, Bangla Pop / Urban Pop, Modern Folk Fusion ও Filmi Gaan / Playback — এই সব ধারায় পরীক্ষিত, নিয়মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে যাচ্ছেন

পরীক্ষামূলক ও আন্তর্জাতিক প্রভাবযুক্ত সাউন্ডে সাবলীল কণ্ঠ। Indie Pop / Lofi ধারাতেও নিয়মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে যাচ্ছেন

মঞ্চে প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও দর্শকের সাথে সরাসরি সংযোগ